যত বড় ‘বঞ্চনা’, তত বড় হোক প্রত্যাবর্তন। ভারতকে জিতিয়ে যেন এটাই ইডেনের দেওয়ালে লিখে দিয়ে গেলেন সঞ্জু স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ‘কোয়ার্টার ফাইনালের’ চাপ সামলে বড় রান তাড়া করে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন তিনি। ৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটা হয়তো ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাচের পর সঞ্জু বলে গেলেন, এই দিনটার জন্যই এতদিন ধরে ক্রিকেট খেলেছেন। সঙ্গে কৃতিত্ব দিয়ে গেলেন পূর্বসুরী রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি-মহেন্দ্র সিং ধোনিদের।রবিবারের ইডেনে ছিল ‘ডু অর ডাই’ লড়াই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সুপার-আটের এই ম্যাচে হার মানেই বিদায়। আর সেই চরম চাপে দাঁড়িয়ে দলের আসল নায়ক হয়ে উঠলেন সঞ্জুই। দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একাই টেনে নিয়ে গেলেন ভারতকে সেমিফাইনালের দরজায়। যে সঞ্জুকে বিশ্বকাপের শুরুতে প্রথম একাদশে জায়গা দেওয়া হয়নি, ভাগ্যের চাকা ঘুরল অন্যদের ব্যর্থতায়। অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষানরা ধারাবাহিক ভাবে হতাশ না করলে হয়তো সুযোগই পেতেন না তিনি। আর সেই সঞ্জুই ২০২৬ সালের ICC Men's T20 World Cup-এ ভারতকে সেমিফাইনালে তোলার আসল কারিগর হয়ে উঠলেন।১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। অভিষেক ১১ বলে ১০, ঈশান ৬ বলে ১০, সূর্যকুমার যাদব ১৬ বলে ১৮— একে একে সবাই ফিরছিলেন সাজঘরে। চাপ বাড়ছিল, গ্যালারিতে উদ্বেগ স্পষ্ট। ঠিক তখনই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সঞ্জু। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস— ১২টি চার, ৪টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ১৯৪.০০! প্রতিটি শট যেন জবাব, প্রতিটি বাউন্ডারি যেন ঘোষণা, ‘আমাকে ব্রাত্যের তালিকায় রাখা যাবে না।’ ইডেনের এই রাত অনেক দিন মনে রাখবে ভারতীয় ক্রিকেট। কারণ বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়রাই ইতিহাস লেখেন— আর এ দিন সেই ইতিহাস লিখলেন সঞ্জুই। সঞ্জুর লড়াইয়ে সঙ্গী ছিলেন তিলক বর্মা। ১৫ বলে ২৭ রান করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন। হার্দিক পান্ডিয়া ১৪ বলে ১৭ রান যোগ করেন। শেষ দিকে শিবম দুবে ৪ বলে অপরাজিত ৮ রান করে কাজটা সহজ করে দেন। ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে নেয় ভারত। চার বল বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলে টিম ইন্ডিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে জেসন হোল্ডার ও শামার জোসেফ ২টি করে উইকেট নেন। আকিল হোসেন পান ১টি উইকেট।