Tripura 365
Editorial Team
যারা স্বেচ্ছায় যৌন পরিষেবা দেয় বা যৌন কর্মী হিসাবে কাজ করে তাদের কোনওরকম হেনস্তা করা যাবে না। বা তাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপরাধমূলক মামলাও দিতে পারবে না পুলিশ। নিজের ইচ্ছায় যৌনতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়াটা অপরাধ নয়। আরও একবার স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে অবশ্যই ওই যৌনকর্মীকে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, কেউ যৌনপেশায় যুক্ত, স্রেফ সেই অজুহাতে তাঁকে হেনস্তা করা যাবে না। বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, যৌনপল্লিতে অভিযানের সময় স্বেচ্ছায় যারা যৌনশ্রম দিচ্ছেন তাঁদেরও হেনস্তা করে পুলিশ। উদ্ধার করে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনর্বাসন দেওয়া হয়। বা উদ্ধার করার নামে তাঁকে জোর করে ওই পেশা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল, এর কোনওটিই করা যাবে না।
আদালতের সাফ কথা, ‘ইমোরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্টে কোথাও বলা নেই যে প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বেচ্ছায় যৌনকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনওরকম ব্যবস্থা নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পতিতালয় চালানোটা অপরাধ। তেমন কেউ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু যৌনকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁর মতামত বেশি গুরুত্ব পাবে। যৌনকর্মীদের উদ্ধার করা বা ‘উদ্ধার’ বা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে তাদের মতামতকেই।
শীর্ষ আদালতের এই নয়া নির্দেশিকায় দেশের প্রায় ৯ লক্ষ যৌনকর্মী উপকৃত হবেন। বস্তুত দেশে দেহ ব্যবসা অবৈধ না হলেও পতিতালয় চালানো বা পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচনা দেওয়া অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়।