Tripura 365
Editorial Team
দিল্লিতে হুড়মুড় করে বাড়ছে এইচ১এন১ ভাইরাসে (সোয়াইন ফ্লু) আক্রান্তের সংখ্যা। বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং খামখেয়ালি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। সরকরি হিসাবে, রাজধানীতে বর্তমানে সোয়াইন ফুল্তে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৩৪৯। গত বছরের তুলনায় সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি।
সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্তের হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, গোটা শরীরে ব্যথা, মাথাযন্ত্রণা, গলা ব্যথা, কাঁপুনি ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিছুক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসকষ্টও হতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়াতেই এই সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, একটানা অধিক মাত্রায় জ্বর, ভুল বকা, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এড়াতে হাত সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য কাশি বা হাঁচির সময় শিষ্টাচার মেনে রুমাল বা মাস্ক ব্যবহারে আড়াল করতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে এবং উপসর্গ গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। উল্লেখ্য, গত বছর একই সময়ে যেখানে এইচ১এন১-এ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৯, সেখানে এই বছর এখন পর্যন্ত দিল্লিতে ১,৩৪৯ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে। বর্ষাকালে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রকোপ এমনিতেই বেড়ে যায়। তখনই সোওয়ানই ফ্লুতে আক্রান্তের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের।
রাজধানীর একটানা আর্দ্র আবহাওয়ার জেরেই সংক্রমণ বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। এই অবস্থায় হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় শিষ্টাচার মেনে চলার পাশাপাশি আগেভাগে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এছাড়াও উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতে থেকে চিকিৎসার কথাও বলছেন তাঁরা। এর ফলে রোগী নিজে যেমন দ্রুত সেরে উঠবেন, অন্যদিকে সহনাগরিকদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না।